:: আল শাহরিয়ার হোসাইন অনি ::
যে সমাজে আমরা প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের কথা শুনি, সেই সমাজেরই এক অন্ধকার ও শ্বাসরুদ্ধকর বাস্তবতা আজ আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলছে। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে প্রায় অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, আর ধর্মের স্বঘোষিত রক্ষকরা মনে করেন মানুষের মন, অনুভূতি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর পাহারা দেওয়ার এক অলিখিত অধিকার তারা পেয়েছেন।
ভালোবাসা কবে থেকে “নৈতিক অপরাধ” হয়ে গেল? নিজের পছন্দের মানুষের সঙ্গে কিছু ব্যক্তিগত সময় কাটানো, কিংবা নিজের জীবন কীভাবে পরিচালিত হবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া, কবে থেকে সামাজিক বিতর্ক, অপমান বা সহিংস হস্তক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়াল?
ধর্ম মূলত প্রতিটি মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এটি সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে ব্যক্তির এক নীরব সম্পর্ক, যার উদ্দেশ্য শান্তি, সহমর্মিতা ও আত্মিক উন্নয়ন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ ধর্মের এক বিকৃত ব্যবহার আমরা প্রত্যক্ষ করছি। কিছু প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও স্বঘোষিত নৈতিকতার রক্ষক ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ‘ফিতনা’ প্রতিরোধের অজুহাতে তরুণদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে, এমনকি কোথাও কোথাও সহিংসতাও চালানো হচ্ছে।
আমাদের একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে, কোনো ধর্মীয় নেতা, কোনো স্বঘোষিত নৈতিকতার ঠিকাদার কিংবা কোনো রক্ষণশীল সামাজিক গোষ্ঠীর এই অধিকার নেই যে তারা নির্ধারণ করে দেবে একজন মানুষ কাকে ভালোবাসবে বা কীভাবে তার ব্যক্তিগত জীবন পরিচালনা করবে। যখন আমরা উগ্রবাদী মানসিকতাকে মানুষের কর্মস্থলে, ব্যক্তিগত পরিসরে কিংবা সামাজিক জীবনে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ দিই, তখন আমরা আসলে আমাদের মৌলিক মানবাধিকারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করি।
প্রকৃত স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার নাম নয়; এটি নিজের বিশ্বাস চর্চা করার, নিজের জীবন নিজের মতো গড়ে তোলার এবং ভালোবাসার মানুষকে পাশে রাখার মৌলিক অধিকারের নাম। এখনই সময় ব্যক্তিগত জীবনে উগ্রপন্থী হস্তক্ষেপের এই শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার। কারণ ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়; বরং মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে ভয়, সহিংসতা ও সামাজিক চাপের মাধ্যমে দমিয়ে দেওয়াটাই প্রকৃত অপরাধ।


















