শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৫৮ পিএম
  1. Lead News
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আমরা
  7. কর্পোরেট
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকুরীর খবর
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. প্রবাস
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

জ্বালানি সংকট নিয়ে রাজনীতি কেন?

প্রতিবেদক
যায়যায়দিন
August 21, 2026 9:55 pm

:: আহসান হাবিব বরুন ::

আমরা এমন এক জাতি—প্রয়োজনে না খেয়ে থাকতে পারি, কিন্তু রাজনীতি না করে থাকতে পারি না। জাতি হিসেবে আমাদের পিছিয়ে থাকার সম্ভবত এটি সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। আমাদের রাজনীতির এমন এক সর্বগ্রাসী সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি সংকট, এমনকি মানুষের জীবন-মরণ প্রশ্নও দলীয় লাভ-ক্ষতির অঙ্কে পরিণত হয়। জ্বালানি সংকটও তার ব্যতিক্রম নয়।

আমাদের রাজনীতিবিদদের একটি ক্ষেত্রে কৃতিত্ব দিতেই হয়—তারা রাজনীতিকে জাতির শিরা-উপশিরা, ধমনী এমনকি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ডিএনএ পর্যন্ত ঢুকিয়ে দিয়েছেন। ফলে একজন নিরপেক্ষ, কর্মঠ ও আদর্শবান মানুষ চাইলেই রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে একা পথ চলতে পারেন না। ভালো একটি কাজ করতেও তাকে কোনো না কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কাছে যেতে হয়। এ বাস্তবতা যতদিন থাকবে, ততদিন কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের মৌলিক পরিবর্তন ঘটানো অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার।
এখানে আমি দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে চাই, আজকের জ্বালানি সংকট কেবল গ্যাসের সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি পরিকল্পনা, অনুসন্ধান, উৎপাদন, অবকাঠামো, আমদানি ও বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বহুমাত্রিক বাস্তবতা। তাই এই সংকটকে দলীয় রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংকটকে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় না বানিয়ে এর কার্যকর সমাধানে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বিরোধী দলের কাজ সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা, বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া এবং জনগণের কথা তুলে ধরা। একই সঙ্গে সরকারেরও উচিত বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—গ্যাসের সরবরাহ কীভাবে স্বাভাবিক হবে? বিদ্যুৎ কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন রাখা যাবে? কারখানার উৎপাদন কীভাবে সচল থাকবে? কৃষি, পরিবহন, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা কীভাবে নির্বিঘ্ন রাখা যাবে? মানুষ রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে কার্যকর সমাধানই বেশি প্রত্যাশা করে।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের নানা সীমাবদ্ধতা আজকের পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন, আমদানি নির্ভরতা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতার বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলা ও অন্যান্য উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রেও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের দিকে নিজস্ব উৎস থেকে দৈনিক প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের যে সক্ষমতা ছিল, তা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ফলে চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এই বাস্তবতা আমাদের সামনে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার যে জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে, সেই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করা। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
জ্বালানি খাত একটি দীর্ঘমেয়াদি খাত। আজ একটি সিদ্ধান্ত নিলে তার সুফল অনেক বছর পরে পাওয়া যায়। তাই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি আগামী দশক ও তার পরবর্তী সময়ের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা জরুরি।
এলএনজি আমদানি, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো, টার্মিনালের সক্ষমতা, এলসি খোলা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য এবং সরবরাহ চেইন—সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সরকারের সামনে এখন বড় সুযোগ হলো, স্বল্পমেয়াদি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জ্বালানি খাতকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। এই পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস, এলএনজি, কয়লা, পারমাণবিক বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য—সব উৎসকে বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করতে হবে।
জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিল্প খাতে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উৎপাদন ধরে রাখতে অনেক কারখানাকে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত কোটি মানুষের জীবিকা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে এই খাতের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।
ভারত, ভিয়েতনাম, চীন, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রতিযোগী। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মূল্য, মান, সময়, নির্ভরযোগ্যতা এবং উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। তাই আমাদের শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার অন্যতম শর্ত।
বাজার ধরে রাখার জন্য শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা রক্ষা করতে হবে। রপ্তানি বাড়াতে হলে শুধু পোশাক খাত নয়, দেশের সব শিল্পে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
জ্বালানি হলো রাষ্ট্রের অর্থনীতির চালিকাশক্তি।
কারখানা, পরিবহন, হাসপাতাল, কৃষি, পানি সরবরাহ, যোগাযোগ, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি—সবকিছু কোনো না কোনোভাবে জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তাই জ্বালানি নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সনির্ভর নীতি অনুসরণ করেছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে দেশি সক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগানো যেতে পারে। যেসব গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন কমছে, সেগুলোর উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা দরকার।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে কাজ করা আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে যেকোনো চুক্তিই হতে হবে স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক, জবাবদিহিমূলক এবং বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে।
জ্বালানি নিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অপচয় ও অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা। গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার শুধু রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করে না; এটি বৈধ গ্রাহকদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। তাই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
স্মার্ট মিটার, ডিজিটাল মনিটরিং, আধুনিক বিতরণব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপচয় কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করা দরকার।
বাসাবাড়িতে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো, শিল্পে যেখানে সম্ভব এলপিজির ব্যবহার, যানবাহনে অটোগ্যাসের বিস্তার—এসব বিষয় নিয়েও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা দরকার।
একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা, পারমাণবিক বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য—সবকিছুকে একটি সমন্বিত জ্বালানি নীতির আওতায় আনতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বিশেষভাবে কাজে লাগানো দরকার। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, শিল্পাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ এবং সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো যেতে পারে। এগুলোকে শুধু বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে নয়, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও নতুন উদ্যোগ দরকার। শক্তি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, দক্ষ ফ্যান, ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি, স্মার্ট গ্রিড এবং আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণেরও সচেতন ভূমিকা দরকার। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো, জ্বালানি অপচয় বন্ধ করা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত হওয়া—এসবও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ।
আমাদের মনে রাখতে হবে, জ্বালানি সংকট কোনো একক সরকারের তৈরি সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের নীতি, চাহিদা বৃদ্ধি, দেশীয় উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তন। তাই এই সমস্যার সমাধানও হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক।
বর্তমান সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে যে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করছে, সেগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে আরও কার্যকর করতে বিশেষজ্ঞ মতামত, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করা দরকার।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব হলো, জ্বালানি সংকটকে দলীয় সংঘাতের বিষয় না বানিয়ে জাতীয় স্বার্থের জায়গা থেকে আলোচনা করা। সরকারকে সহযোগিতা করা মানে সরকারের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হওয়া নয়; বরং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়া এবং কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করা।
জ্বালানি কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়; এটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক রক্তসঞ্চালন। তাই জ্বালানি সংকট নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, আমাদের দরকার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতি।
আজ আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, স্বচ্ছ অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা। স্বল্পমেয়াদে শিল্প ও মানুষের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে পারলে জ্বালানি সংকটই বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্যোগের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা যুক্ত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং শিল্প, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাও আরও গতিশীল হবে।
জ্বালানি সংকটকে তাই রাজনৈতিক বিভাজনের কারণ না বানিয়ে জাতীয় ঐকমত্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। বাংলাদেশ তার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি নিরাপদ, টেকসই ও বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে—এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

সর্বশেষ - সারাবাংলা

আপনার জন্য নির্বাচিত