শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ৮:০৮ পিএম
  1. Lead News
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আমরা
  7. কর্পোরেট
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকুরীর খবর
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. প্রবাস
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

মানুষ নাকি জাতিসত্তা: কোনটি বড়?

প্রতিবেদক
যায়যায়দিন
December 9, 2022 9:16 pm

:: আয়শা সিদ্দিকা হিমি ::

একটি রাষ্ট্র কি কেবল নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী বা প্রবল জাতিসত্তার পরিচয়ে পরিচিত হবে? নাকি সেই রাষ্ট্রের প্রতিটি ধূলিকণা সেখানে বসবাসরত প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার আর আত্মমর্যাদার নিশ্চয়তা দেবে? আজ যখন আমাদের চারপাশের সামাজিক আবহে অসহিষ্ণুতা আর সাম্প্রদায়িক বিভাজনের কালো মেঘ দেখি, তখন একটি মৌলিক ও অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন বারবার বড় হয়ে সামনে আসে, আসলে বড় কে? মানুষ নাকি তার জাতিগত পরিচয়?

আজকের এই নিবন্ধে আমি এক ক্ষতবিক্ষত সামাজিক বাস্তবতা আর অবদমিত যন্ত্রণার কথা বলতে চাই। আমাদের এই বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডে আজ একদল স্বার্থান্বেষী উগ্রবাদী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে জাতিগত আর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে খণ্ডিত করার এক চরম আত্মঘাতী খেলায় মেতেছে। তারা মানুষকে আগে ‘মানুষ’ হিসেবে না দেখে, বিচার করছে তার ক্ষুদ্র জাতিগত পরিচয় বা সাম্প্রদায়িক লেবেল দিয়ে। আর এই বিভাজনের অপরাজনীতির সবচেয়ে সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে এদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী।

বাংলাদেশে আজ সংখ্যালঘুদের ওপর চলা নিপীড়ন, সামাজিক বর্জন আর বৈষম্য কোনো গোপন বিষয় নয়। আমরা প্রতিদিন দেখছি, কীভাবে ধর্মীয় বা জাতিগত অজুহাতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ক্রমাগত কোণঠাসা করা হচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে উপাসনালয় পর্যন্ত আক্রান্ত হচ্ছে; কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের লালিত নিরাপত্তা আর মৌলিক অধিকার। কিন্তু রাষ্ট্র তো কেবল কোনো বিশেষ ধর্ম বা একক জাতিসত্তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের যেমন সমান অধিকার থাকার কথা, তেমনি সমান দায়িত্বও থাকার কথা। আমাদের পবিত্র সংবিধান যেখানে সকল নাগরিকের সমমর্যাদা আর সাম্যের নিশ্চয়তা দেয়, সেখানে উগ্রপন্থীদের তৈরি করা এই বিভাজন কেবল অসাংবিধানিকই নয়, বরং তা আমাদের জাতীয় চেতনার ওপর এক চরম আঘাত।

আমি এদেশের সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই আজ আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা আমরা যারা আহমাদিয়া বা অন্যান্য প্রান্তিক জীবন যাপন করছি, আমাদের বঞ্চনার গল্পগুলো এক, আমাদের লড়াইয়ের লক্ষ্যও অভিন্ন। এই দেশ আমাদের সবার, এই মাটি আমাদেরও মা। এদেশের প্রতিটি ধূলিকণায় আমাদেরও সমান ঘাম আর উত্তরাধিকার মিশে আছে। তাই নিজেদের নাগরিক অধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আমাদের আজ এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।

সবশেষে একটি ধ্রুব সত্য আমাদের মনে রাখা জরুরি, কোনো জাতিসত্তা বা ধর্ম কারো শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হতে পারে না। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত মানুষের মনুষ্যত্ব আর তার কর্ম। যেদিন আমরা জাতি আর ধর্মের কৃত্রিম দেয়াল ভেঙে একে অপরের নাগরিক অধিকারের প্রতি প্রকৃত অর্থেই শ্রদ্ধাশীল হতে পারব, সেদিনই আমরা একটি সত্যিকারের সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করতে পারব। এদেশ আমাদের সবার, আর এখানে সমঅধিকার পাওয়া কোনো করুণা নয়, বরং আমাদের অবিচ্ছেদ্য সাংবিধানিক অধিকার।

আসুন, ঘৃণা আর বিভেদ নয়, বরং সংহতির শক্তিতে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে মানুষের চেয়ে জাতি বড় হবে না, বরং প্রতিটি মানুষের ‘মনুষ্যত্ব’ হবে সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে।

সর্বশেষ - সারাবাংলা