:: নোয়াখালী প্রতিনিধি ::
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবীসিংহপুর গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জামায়াত নেতা মো. ফখরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। হামলায় ফখরুল ইসলামের বৃদ্ধ বাবা মো. জয়নাল আবেদীন ও ছোট ভাই আহত হয়েছেন। মারধরের একপর্যায়ে তার বাবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ফখরুল ইসলাম ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগেও ফখরুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ওই পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে বিএনপি নেতা সোহেল, তুহিন, সুমন ও আলাউদ্দিনসহ ১৫-২০ জনের একটি দল ফখরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলাকারীরা ফখরুল ইসলামের বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ফখরুল ইসলামের ছোট ভাইকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীরা বাড়িতে ফখরুল ইসলামকে খুঁজতে থাকেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাকে পেলে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা আরও দাবি করেন, ফখরুল ইসলামকে নিয়ে এর আগেও হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ থাকায় বর্তমান হামলা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় তারা আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, ফখরুল ইসলাম দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফখরুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার রাজনৈতিক ও পূর্ববিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ফখরুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “বৃদ্ধ মানুষকে মারধর এবং বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
হামলার পর স্থানীয় এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালীর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহায়তা চাওয়া হলেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার ঘটনায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফখরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে এনে হামলাকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ থাকায় পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা সোহেল, তুহিন, সুমন ও আলাউদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়েও সেনবাগ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।


















